স্থানীয় বাজারে চাহিদা কম

যুক্তরাষ্ট্রের বিরল খনিজ যাচ্ছে এশিয়ায়

চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিরল খনিজের নিজস্ব সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কয়েক বছর ধরে বড় বিনিয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি সহায়তাও পেয়েছে একাধিক প্রতিষ্ঠান। তবে উৎপাদন বাড়লেও স্থানীয় শিল্পে এখনো সে চাহিদা তৈরি হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত বিরল খনিজের বড় অংশ বিক্রি হচ্ছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলোর কাছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজের পূর্ণাঙ্গ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আরো সময় লাগবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, ওয়াশিংটনের সমর্থন পাওয়া এমপি ম্যাটেরিয়ালস, এনার্জি ফুয়েলস ও ফিনিক্স টেইলিংস এরই মধ্যে মার্কিন সরকারের কাছ থেকে বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পেয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উত্তোলিত বিরল খনিজ বর্তমানে মূলত এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে যাচ্ছে। কারণ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় চুম্বক উৎপাদন শিল্প অনেক বেশি উন্নত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এ শিল্প এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিরল খনিজ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বৈশ্বিক সরবরাহে চীনের দীর্ঘদিনের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য কৌশলগত উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বেইজিং রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপের পর এ উদ্বেগ আরো বেড়েছে। এসব ধাতু আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল। ক্ষেপণাস্ত্রের নির্দেশনা ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির ব্যাটারি, সেমিকন্ডাক্টর ও বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য তৈরিতে এগুলো ব্যবহার হয়।

ফিনিক্স টেইলিংসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিক মায়ার্স বলেন, ‘চলতি বছর চীন থেকে বিরল খনিজ রফতানি কমে যাওয়ায় জাপানের ক্রেতারা আমাদের থেকে ধাতু কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’

তিনি জানান, অধিকাংশ ক্রেতাই জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থিত। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্প দ্রুত এগিয়ে না এলে এশিয়ার ক্রেতারাই বেশি দামে পণ্য কিনে নেবে।

সিআইএ-সমর্থিত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইকিউটির সহায়তায় পরিচালিত ফিনিক্স টেইলিংস বর্তমানে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটি এখনো বড় উৎপাদক নয় ও বিক্রির পরিমাণও প্রকাশ করে না। তবে সরকারি সহায়তা উৎপাদন সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজ উত্তোলন, পরিশোধন ও চুম্বক উৎপাদনের জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প গড়ে তুলতে সময় লাগবে। বর্তমানে বৃহৎ পরিসরে নিওডিমিয়াম-আয়রন-বোরন (এনডিএফইবি) চুম্বক উৎপাদনে বিশ্বের নেতৃত্বে রয়েছে মাত্র দুটি দেশ, চীন ও জাপান। গাড়ি, যুদ্ধবিমান, বায়ুকল, রোবট ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয় এ চুম্বক।

মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় উৎপাদক এমপি ম্যাটেরিয়ালস। প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বেশি আয় আসে নিওডিমিয়াম-প্রাসিওডিমিয়াম (এনডিপিআর) অক্সাইড ও ধাতু বিক্রি থেকে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এসব পণ্যের বড় অংশ সুমিতোমো করপোরেশন অব আমেরিকার সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় জাপানের গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রযুক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সরবরাহ চুক্তি করেছে কোম্পানিটি।

জানা যায়, এমপি ম্যাটেরিয়ালসের উত্তোলিত বিরল খনিজের বড় অংশ এক বছর আগেও চীনের শেংহে রিসোর্সেসের কাছে বিক্রি হতো। তবে মার্কিন সরকারের সঙ্গে নতুন চুক্তির পর প্রতিষ্ঠানটি চীনে সরবরাহ বন্ধ করেছে। এখন কোম্পানির লক্ষ্য নিজস্ব কারখানায় বৃহৎ পরিসরে চুম্বক উৎপাদন করা।

উল্লেখ্য, রেয়ার আর্থ বা বিরল খনিজ হলো ১৭টি ধাতব মৌলের একটি বিশেষ শ্রেণী। এসব মৌল আধুনিক প্রযুক্তির জন্য খুবই জরুরি। বর্তমানে বহুল আলোচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সরঞ্জাম, স্মার্টফোন, ইভি, উইন্ড টারবাইন ও এলইডি লাইট তৈরিতে এগুলো ব্যবহার হয়।

আরও